Logo
প্রিন্টের তারিখ: 21 September 2026 | প্রকাশের তারিখ: Sep 21, 2026

সংবাদ শিরোনাম : সিলেটের চা-বাগানে এক লাখ ২২ হাজার মানুষের জীবন: প্রজন্মের শ্রমের পরও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন

সিলেটের চা-বাগানে এক লাখ ২২ হাজার মানুষের জীবন: প্রজন্মের শ্রমের পরও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
সিলেটের চা-বাগানে বন্দী এক লাখ বাইশ হাজার জীবন—আধুনিক দাসত্বের নিঃশব্দ চিৎকার

পৌনে দুইশ বছরের ঘাম, রক্ত আর প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রম—তবু আজও মাটির ভাগে নাম ওঠেনি তাঁদের। সিলেটের সবুজ পাহাড়ে ছড়িয়ে থাকা চা-বাগানগুলো যেন এক একটি বন্দিশালা, যেখানে মানুষ নয়, শুধু শ্রমশক্তি বাস করে। ইতিহাসের পাতায় দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়েছে সেই কবে—কিন্তু সিলেটের চা-শ্রমিকদের জীবনে যেন সময় থমকে আছে সেই অন্ধকার যুগেই।

এক লাখ বাইশ হাজার মানুষ। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের আগে বাগানে নামেন, সূর্যাস্তেও ফেরেন সেই একই মাটির কুঁড়েঘরে—যে মাটি তাঁদের পূর্বপুরুষের ঘাম মিশে সবুজ হয়েছে, অথচ যার মালিকানা আজও তাঁদের নয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের মতো সাধারণ একটি কাগজ জোগাড় করতেও তাঁদের পড়তে হয় হয়রানির অন্তহীন চক্রে—যেন রাষ্ট্র নিজেই ভুলে গেছে, এই মানুষগুলোও এ দেশের নাগরিক।

মাসে মাত্র ৩ হাজার ৬১০ টাকা। বাজারে যখন এক কেজি চালের দামই ছুঁইছুঁই করছে আকাশ, তখন এই মজুরি যেন এক নিষ্ঠুর রসিকতা। শ্রমিকেরা বলছেন, এই টাকায় বেঁচে থাকা নয়, বরং ধুঁকে ধুঁকে মরে যাওয়াই যেন তাঁদের নিয়তি। যেন তাঁরা এই বাংলাদেশেরই মানুষ নন—বাস করছেন কোনো এক ভিনগ্রহে, যেখানে ন্যায্য মজুরির ধারণাটাই অচেনা।

দুইশ বছর ধরে এই বৈষম্যের বেড়াজালে বন্দী সিলেটের চা-শ্রমিক সমাজ। ভূমির অধিকার নেই, নাগরিক সুবিধা নেই, মজুরিতে নেই মানবিক মর্যাদার লেশমাত্র। প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র—রাষ্ট্র, প্রশাসন আর বাগান-মালিকপক্ষের নীরবতা আর কত দিন চলবে? এক লাখ বাইশ হাজার মানুষের এই নীরব কান্না কি কখনো পৌঁছাবে ক্ষমতার অলিন্দে?
দৈনিক সিলেট টাইমস 24
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF