Logo
প্রিন্টের তারিখ: 21 September 2026 | প্রকাশের তারিখ: Sep 21, 2026

সংবাদ শিরোনাম : আদালতের নির্দেশের পরও বিয়ানীবাজারে জমিতে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে দ্বারে দ্বারে পরিবার

আদালতের নির্দেশের পরও বিয়ানীবাজারে জমিতে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে দ্বারে দ্বারে পরিবার
আদালতের রায়কে বুড়ো আঙুল! বিয়ানীবাজারে প্রকাশ্য জবরদখলের মহোৎসব, দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট মোঃ খালেদ আহমেদ 

বিচারালয় আছে, আইন রয়েছে এবং প্রশাসনিক কাঠামোর উপস্থিতি সত্ত্বেও যেন বাস্তবে কোনো প্রতিকারের দেখা মিলছে না। সিলেটের বিয়ানীবাজারে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে পেশিশক্তির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে প্রচলিত আইন। আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে এবং পুলিশ প্রশাসনের নোটিশকে পাশ কাটিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র বেপরোয়া জবরদখলের উৎসবে মেতে উঠেছে। অন্যদিকে, থানা থেকে শুরু করে আদালত এবং ভূমি অফিস—প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে এক নিরীহ পরিবার চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।

উপস্থাপিত দলিলপত্র ও আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনায় ভিন্ন চিত্রই ফুটে ওঠে। বিয়ানীবাজার উপজেলার নন্দীশ্বর মৌজার এস.এ. ৬ নম্বর খতিয়ানভুক্ত এস.এ. ৩০ ও বি.এস. ৩৩০ নম্বর দাগের ১৩ শতক জমির বৈধ ও রেকর্ডীয় মালিক হিসেবে মৃত হাজী আকমল আলীর পুত্র মোঃ ছাদ মিয়া ও মোঃ আছাদ উদ্দিনের নাম রয়েছে। সরকারি নথিতে এই জমির ওপর কোনো ধরনের জনপথ বা সরকারি রাস্তার অস্তিত্ব নেই। পরিবারের ভাষ্যমতে, অতীতে কেবল মানবিক বিবেচনায় প্রতিবেশীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য জমির মালিকরা নিজ দায়িত্বে ১০ ফুট চওড়া এবং ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি চলাচলের পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই উপকারের প্রতি কোনো সম্মান না দেখিয়ে উল্টো ওই পথটিকে জবরদখল করে ২৭ ফুট প্রশস্ত  রাস্তা ঢালাই করা হয়েছে ।

এই অনৈতিক কার্যকলাপে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। মৃত সাচ্ছাদ আলীর পুত্র নজরুল ইসলাম এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে জমিটিকে সরকারি রাস্তা হিসেবে দাবি করে আসছেন। তাঁর এই কার্যক্রমে সহযোগী হিসেবে সুমন আহমদ, রিমন আহমদ এবং মৃত দুলাল উদ্দিনের দুই পুত্র ইমন আহমদ ও মামুন আহমদ যুক্ত রয়েছেন বলে জানা যায়। অথচ সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও পর্চার প্রতিটি পাতায় জমির প্রকৃত মালিকানার বিবরণ অত্যন্ত স্বচ্ছ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বিরা একাধিকবার সালিশি বৈঠকে বসলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কোনো মুরুব্বির সিদ্ধান্তই মেনে নেননি; বরং বারবার তা অমান্য করে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন।

পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে কোনো আইনি বিকল্প না পেয়ে মোঃ ছাদ মিয়ার স্ত্রী লিলি বেগম বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২, সিলেটে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি মামলা (নং-৪৭/২০২৬) দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই আদালত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শনপূর্বক দখল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারির কথাও বলা হয়।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের মূল আক্ষেপ অন্য জায়গায়। তাঁদের প্রশ্ন—"থানা থেকে আদালত, আদালত থেকে ভূমি অফিস—এমন কোনো জায়গা বাকি রাখিনি দৌড়াদৌড়িতে, তারপরও মিলছে না কোনো সমাধান!" জোরপূর্বক জমির ওপর রাস্তা বানিয়ে নেওয়ার পর প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা ও নীরব ভূমিকা জনমনে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আইনগত দলিলপত্র, খতিয়ান, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য—সবকিছুই বাদীপক্ষের অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের এমন বেপরোয়া আচরণ বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আদালতের রায় কি তবে কেবল কাগজের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? অনতিবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে অবৈধ নির্মাণকাজ ও জবরদখল চিরতরে বন্ধ করা এবং ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
দৈনিক সিলেট টাইমস 24
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF