Logo
প্রিন্টের তারিখ: 21 September 2026 | প্রকাশের তারিখ: Sep 21, 2026

সংবাদ শিরোনাম : গোলাপগঞ্জে বাড়ছে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

গোলাপগঞ্জে বাড়ছে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
 প্রতিবেদক, মোঃ খালেদ আহমেদ 

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কথিত দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পেশাদার সাংবাদিক কেউই যেন নিরাপদ নন। ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি বা পেজ খুলে মানহানিকর পোস্ট ও অপপ্রচার চালানোর একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী শেখরুল ইসলাম এবং মিজান আহমেদসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি ফেইসবুকে অশালীন ভাষায় গালাগালি, ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য প্রতিনিয়ত মানহানিকর পোস্ট দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীদের নানা ধরনের হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অথচ এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা।

গোলাপগঞ্জে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরাও এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপরাধমূলক ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ বা অনুসন্ধান শুরু করলেই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে থামিয়ে দেওয়ার নানা অপচেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালিয়ে তাদের পেশাগত সম্মানহানি করার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও পেশাগত দায়িত্ব পালন ব্যাহত হচ্ছে।

প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে কথা বললে বা কোনো অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়। এই ভয়ে অনেকেই এখন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তবে তা সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি।

 গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন—প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অপকর্ম চললেও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? গোলাপগঞ্জে যদি সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকরা প্রতিনিয়ত এভাবে হয়রানির শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, অবিলম্বে এসব ঘটনার সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় গোলাপগঞ্জের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিকারের জন্য ভুক্তভোগীদের লিখিতভাবে জেলা প্রশাসন বা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদিসহ অভিযোগ দায়ের করা এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি নিয়ে আপনার আরও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য যুক্ত করার প্রয়োজন আছে কি?
দৈনিক সিলেট টাইমস 24
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF