এম এ মালেক, গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের গোলাপগঞ্জে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর খানাখন্দ ও বেহাল দশার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে সড়কগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন স্থানীয় অধিবাসীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ৬৮৮ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৮ কিলোমিটার পাকা হলেও প্রায় ৩০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক এখনো সংস্কারের অপেক্ষায় রয়ে গেছে। এসব কাঁচা ও খানাখন্দে ভরা সড়কের কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন হলেও মুমূর্ষু রোগী পরিবহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কর্মজীবী মানুষের মূল্যবান সময় ও কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রধান ও সংযোগ সড়কগুলোর অবস্থা একেবারেই করুণ:
- বাঘা ইউনিয়ন: বোরহান উদ্দিন রোড থেকে এখলাছপুর, সোনাপুর বাজার থেকে বাঘা মাদ্রাসা ঘাট, বইটিকর খেয়াঘাট থেকে লালনগর খেয়াঘাট, বাঘার বাজার থেকে মাঝের মহল্লা ঈদগাহ, দক্ষিণ বাঘা থেকে তুড়ুগাঁও, গোলাপনগর পশ্চিমগাঁও থেকে কান্দিগাঁও খেয়াঘাট, উত্তরগাঁও থেকে পূর্বগাঁও খেয়াঘাট এবং তুড়ুগাঁও থেকে লালনগর খেয়াঘাট সড়ক একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম পারভেজ জানান, এই অঞ্চলের প্রধান সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
- লক্ষণাবন্দ ও ভাদেশ্বর ইউনিয়ন: লক্ষণাবন্দের দেওপাড়া খেইড়তলা, করগ্রাম মইনরাটিলা, পূর্বভাগ মাঝপাড়া, ভুটিরাপাড়া, ফুলসাইন্দ খলাভাগি, নিজ ফুলসাইন্দ বাউলি টিলা সড়ক এবং ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্বভাগ ভাটাটিকর থেকে দখারপাড়া লিংক রোড, খলাশহর ও দক্ষিণভাগ সড়কে চরম বেহাল দশা বিরাজ করছে। লক্ষণাবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান খলকুর রহমান বলেন, "সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা জরুরি, এলাকাবাসী সীমাহীন ভোগান্তিতে আছেন।"
- বুধবারীবাজার ইউনিয়ন: চন্দরপুর থেকে আছিরগঞ্জ, আছিরগঞ্জ থেকে শরীফগঞ্জ রোড, চন্দরপুর থেকে কটলিপাড়া, ঢাকাদক্ষিণ বাইপাস থেকে বিয়ানীবাজার সড়ক এবং কুশিয়ারা নদী ডাইক সড়ক সংলগ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান হপলাল উদ্দিন।
- লক্ষীপাশা ও ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন: লক্ষীপাশার বইটিকর সিএনজি রোড থেকে শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়ক, কোনাচর মোল্লাবাড়ী থেকে লক্ষীপাশা বাজার, বাটুলগঞ্জ মাদ্রাসা থেকে ২২মোরা ও রাখালগঞ্জ বাজার সড়ক এবং লক্ষীপাশা ডিএম রোড থেকে মহিলা মাদ্রাসা সড়ক বেহাল। এছাড়া ঢাকাদক্ষিণের রায়গড় বাবরী মসজিদ রোড, মিশ্রপাড়া, নিশ্চিন্ত দক্ষিণ পাশের রাস্তা, রায়গড় গাজিকুল ও সুনামপুর ঈদগাহ রোড একই পরিস্থিতির শিকার।
- শরীফগঞ্জ ও বাদেপাশা ইউনিয়ন: শরীফগঞ্জের কালীকৃষ্ণপুর চেয়ারম্যান বাড়ীর সম্মুখ হতে দক্ষিণে মহরমের বাড়ী, রাংজিয়ল ইউপি সীমানা থেকে খারের পার ব্রিজ, ইসলামপুর বাজার থেকে ফজলু মিয়ার বাড়ী, ইসলামপুর খেয়াঘাট থেকে বায়তুন-নূর জামে মসজিদ এবং আলফালা একাডেমী থেকে বসন্তপুর অমরগঞ্জ বাজার সড়ক অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বাদেপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসাইন জানান, চন্দরপুর থেকে মোল্লার চক, বাগলা কেউট কোনা থেকে রাকুয়ার বাজার, মীরের চক ফাইদুলের খামার থেকে বাগলা বাজার টাওয়ার এবং ডেপুটি বাজার থেকে হাজির কোনা ভাইয়া কাঁদিপুর সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ ইউসুফ হোসেন খান জানান, উপজেলায় এলজিইডির আওতায় থাকা ৬৮৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩৮৮ কিলোমিটার পাকা ও ৩০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় চাহিদা ও বাজেট প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..