হাসপাতালকে বলা হয় মানুষের জীবন বাঁচানোর ও নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল। কিন্তু সেই সরকারি হাসপাতালেই যখন অসুস্থ শিশুর মা খোদ স্টাফদের লালসার শিকার হন, তখন সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নৈতিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন ও লোমহর্ষক ঘটনা পুরো দেশের বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ভুক্তভোগী ওই মায়ের নাম রোজিনা।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৫ জুন রোজিনা তাঁর দুই বছরের অসুস্থ শিশুকন্যাকে নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। ৭ জুন সকাল ১০টার দিকে শিশুর জন্য ওষুধ দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত নিজেকে স্টাফ পরিচয় দিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক ষষ্ঠ তলায় নিয়ে যান। সেখানে ওত পেতে থাকা অনিল ও প্রাঙ্গণ নামের দুই সহযোগীর সাহায্যে অমিত ওই অসহায় মাকে ধর্ষণ করেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখেন। এরপর বাকি দুই সহযোগীও একইভাবে তাঁর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। বিষয়টি কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় তাদের পক্ষ থেকে।
হাসপাতালের নিচে শিশুটির মায়ের অনুপস্থিতিতে অনবরত কান্না শুরু করলে দায়িত্বরত নার্সরা সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেন। ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু দেখে হাসপাতালের সাহসী আনসার সদস্যরা দ্রুত ষষ্ঠ তলায় গিয়ে ওই নারীকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিনের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ৩ জনকেই হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সামনে প্রথমে তারা বিষয়টি অস্বীকার করলেও, ভুক্তভোগী রোজিনা নিজে অপরাধীদের ওপর চড়াও হয়ে প্রতিবাদ জানালে তারা নিজেদের জঘন্য অপরাধের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়সহ সারাদেশের মানুষ ফুসে উঠেছে। রামিশা হত্যাকাণ্ডের মতো আলোচিত ঘটনার বিচার অল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর হওয়ার নজির থাকলেও, এই লোমহর্ষক ঘটনায় অপরাধীদের কঠোর ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীসহ সারাদেশের সচেতন নাগরিকরা। সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড