সিলেট জেলা আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অ্যাডভোকেট ইয়ামিন চৌধুরীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এ হামলা চালানো হয়।
হামলায় গুরুতর আহত হন আইনজীবী ইয়ামিন চৌধুরী। তার হাতের দুটি আঙুল মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে মাসুক উদ্দিনের নাম উঠে এসেছে, যিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী বলে জানা গেছে।
আহত ইয়ামিন চৌধুরী হাসপাতালের শয্যা থেকে জানান, দীর্ঘদিনের পেশাগত বিরোধের জের ধরেই এ হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি মাসুক উদ্দিনের একটি হত্যা মামলায় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সে মামলায় জামিন পাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট আদালতে দাখিল করা হয়। আমি সেটি চ্যালেঞ্জ করলে আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন এবং জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হয়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের ছবি ফেসবুকে পোস্টকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে বুধবার দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে মাসুক উদ্দিন ধারালো অস্ত্র নিয়ে ইয়ামিন চৌধুরীর ওপর হামলা চালায় এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করে।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাহেদ আহমদ তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির বলেন, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় আইনজীবী মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযুক্ত মাসুক উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..