জুলাই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত গোলাপগঞ্জের সেই আলোচিত মুখগুলো, যারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোলাপগঞ্জ (সিলেট) | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
গোলাপগঞ্জ: ২০২৪ সালের সেই রক্তঝরা জুলাইয়ে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও ঢাকাদক্ষিণ যখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল, তখন ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হামলার নির্দেশদাতা ও সরাসরি অংশগ্রহণকারীরা আজও আইনের জালে ধরা পড়েনি। শহীদদের রক্তভেজা মাটিতে আজ খুনিরা সদম্ভে বিচরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে অধরা থেকে যাচ্ছে এই আলোচিত মুখগুলো।
চিহ্নিত আসামী ও বর্তমান চিত্র:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম আহমদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হোসেন আহমদসহ মামলার একাধিক আসামীকে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম আহমদ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম দস্তগীর ছামিন, শাবুদ্দিন আহমদ এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাহেদ আহমদ প্রকাশ্য দিবালোকে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছেন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকাদক্ষিণ বাজারে গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে সকল মামলা হয়েছে, এই ব্যক্তিরা সেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। স্থানীয়রা বলছেন, আসামীদের এমন বিচরণ শহীদ পরিবারের ক্ষতে লবণের ছিটা দেওয়ার মতো।
প্রশাসনের উদাসীনতা না কি অদৃশ্য সমঝোতা?
২০২৬ সালের শুরুতে সরকার "জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ" জারি করলেও গোলাপগঞ্জে তার সুফল মিলছে না। স্থানীয় জুলাই যোদ্ধাদের অভিযোগ, পুলিশ আসামী ধরার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করছে না। অনেক আসামী উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নিয়ে আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে আসছেন, আবার অনেকে কোনো জামিন ছাড়াই বুক ফুলিয়ে চলছেন।
শহীদ সানি ও নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা একরাশ ক্ষোভ নিয়ে জানান, "যাদের হাতে আমাদের সন্তানদের রক্ত, তারা যখন সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তখন মনে হয় বিচার ব্যবস্থা তামাশায় পরিণত হয়েছে।"
নিষেধাজ্ঞার পরেও দাপট:
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও এর সকল অঙ্গ-সংগঠনকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু গোলাপগঞ্জের এই চিহ্নিত আসামীরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এখনো নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
জনদাবি:
গোলাপগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই খুনিদের গ্রেফতার করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং খুনিদের আস্ফালন থামাতে দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ কামনা করছেন সর্বস্তরের মানুষ।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..